২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, দুপুর ১২টা। কুষ্টিয়া থানার আশপাশের রাস্তাজুড়ে তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ডাকে সমবেত শত শত মানুষ। প্রতিবাদকারীদের একজন ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মো. আলাউদ্দিন।
সেদিন পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে গলা ও শরীরজুড়ে আহত হন তিনি। এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর শরীরে এখনো রয়ে গেছে প্রায় ২০–২২টি ছররা গুলি। গলার একটি গুলি অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করা গেলেও বাকি গুলিগুলো রয়ে গেছে শরীরেই।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরে থাকা সব গুলি একসঙ্গে অপসারণ করলে মারাত্মক সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে। তাই আপাতত সেগুলো শরীরেই রাখতে হচ্ছে। এই অবস্থায়ও আলাউদ্দিন প্রতিদিনের জীবনসংগ্রামে অংশ নিচ্ছেন।
আলাউদ্দিন বলেন, “আমি তখন কুষ্টিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতাম। সেখান থেকেই আন্দোলনে অংশ নিই। গুলি লাগার পর সহযোদ্ধা রকি ও আরও কয়েকজন আমাকে উদ্ধার করে আদ-দ্বীন হাসপাতাল, পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেয়। অবস্থা গুরুতর হলে সেদিনই ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে গলায় অপারেশন করে একটি গুলি বের করা হয়।”
তিনি জানান, চিকিৎসকদের মতে, শরীরের বাকি গুলিগুলো অপসারণ করলে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এখনো সেগুলো শরীরেই রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে কাজ ও চলাফেরা করতে হচ্ছে।
আলাউদ্দিন এক সময় কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। আন্দোলনের আগে দেশে এসে আবারও বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ভিসাও পেয়ে যান। কিন্তু মেডিকেল পরীক্ষায় শরীরে গুলি থাকার কারণে তাকে ‘আনফিট’ ঘোষণা করা হয়, ফলে সেই ভিসাও বাতিল হয়ে যায়।
তবুও কোনো আক্ষেপ নেই আলাউদ্দিনের। তিনি বলেন, “বিদেশ যাওয়ার সুযোগ হারানো বড় ক্ষতি বটে। কিন্তু বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকতে পেরেছি, এটা আমার গর্ব। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছিলাম—এই সত্যটা বুকে ধারণ করেই বাকি জীবন কাটাতে চাই।”

সম্পাদকঃ ইঞ্জি. মোঃ রুবেল হক