প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫ । ৭:১৯ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচন প্রথম অগ্রাধিকার, এরপর সংস্কার ও বিচার” — প্রধান উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক

প্রধান উপদেষ্টার তিন ধাপের রোডম্যাপ: নির্বাচন, সংস্কার, বিচার

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম অধ্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন সরকার দ্বিতীয় অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “গত ৫ আগস্ট আমরা সরকারের প্রথম অধ্যায় শেষ করেছি। আজ থেকে দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হলো। এর প্রথম কাজ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা।”

প্রেস সচিব জানান, ড. ইউনূসের ঘোষিত তিনটি অগ্রাধিকারের মধ্যে নির্বাচন প্রথম, সংস্কার দ্বিতীয় এবং বিচার তৃতীয়। এই তিনটি স্তম্ভই দেশের চলমান সংকট উত্তরণে এবং গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি উপদেষ্টাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে তাঁরা নিজ নিজ দায়িত্বের জায়গা থেকে এই লক্ষ্য পূরণে একযোগে কাজ করেন।

নির্বাচন: সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকার শক্তিশালী পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ৮ লাখ সদস্য রয়েছে, সেখানে আরও ৫০ হাজার যোগ করা হবে। সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যাও ৬০ হাজার থেকে বাড়িয়ে আরও জোরালো করা হবে।”

নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা ছাড়াও মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রেস সচিব বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ, পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।”

দ্বিতীয় ধাপ: কাঠামোগত সংস্কার

প্রধান উপদেষ্টার দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হলো রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা। এই সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ।

প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংস্কার না করা হলে, ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”

তিনি আরও জানান, সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার প্রস্তাবনা দেবে।

তৃতীয় ধাপ: বিচার ও দায়বদ্ধতা

সরকারের তৃতীয় অগ্রাধিকার হলো বিচারপ্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে অতীতে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। ড. ইউনূস জানিয়েছেন, “কোনো অপরাধী যেন দায়মুক্তি না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। বিচার হবে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে, ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে।”

প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর দিকেও দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে।”

এই প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে:

  • রাজনৈতিক সহিংসতার তদন্ত
  • নির্বাচনী অনিয়মের বিচার
  • প্রশাসনের অভ্যন্তরে দুর্নীতির তদন্ত

বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যতের রূপরেখা

প্রেস সচিব জানান, বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। আগামী দিনগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, তাঁদের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।”

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার এই তিনটি প্রধান লক্ষ্য—নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার—বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।

প্রিন্ট করুন