প্রকাশের সময়: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫ । ৪:২৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আলমডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে অস্ত্র, চুরি ও নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় ১০ জন আসামি আটক

আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানার উদ্যোগে শনিবার দিবাগত রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোট ১০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা সবাই অস্ত্র, চুরি ও নারী-শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি। গ্রেফতারকৃতদেরকে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়।

থানা পুলিশের সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান পিপিএম-এর নেতৃত্বে থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও পলাতক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা। অভিযানে অংশ নেয় থানার একাধিক টিম, যারা পূর্ব থেকে প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—স্টেশনপাড়া গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে সোহেল (২৪) এবং একই এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে রুবেল হোসেন (৩২)। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ স্টেশনপাড়ার খলিল হোসেনের ছেলে ইমন আলী (১৯), কোটপাড়ার আশরাফুল হকের ছেলে লাল মিয়া (২৭), মাদ্রাসাপাড়ার গণেশ মজুমদারের ছেলে সঞ্জয় মজুমদার (৩০), থানাপাড়ার মৃত আকমল হোসেনের ছেলে সাদ্দাম মোল্লা (২৪), গোবন্দিপুর গ্রামের মৃত সানোয়ার হোসেনের ছেলে জামিরুল ইসলাম (২৮), রাধিকাগঞ্জ ফকিরপাড়ার মৃত আবুল হাশেমের ছেলে মুনতাজ আলী (৩২), গোপিনাথপুরের মাহাতাব আলীর ছেলে ফিরোজ হোসেন (৩০) এবং পাইকপাড়ার জিয়ারের ছেলে নাসিম (২৭)।

অভিযানে গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা মামলা রয়েছে। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন, আবার কেউ সম্প্রতি সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়ারেন্টভুক্ত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তারা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল।

ওসি মাসুদুর রহমান পিপিএম সাংবাদিকদের বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। গত রাতের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে অস্ত্র, চুরি ও নারী-শিশু নির্যাতন মামলার ১০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।” তিনি আরও জানান, আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে, যাতে অপরাধীরা কখনোই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রেহাই না পায়।

স্থানীয়রা পুলিশি এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, পলাতক ও অপরাধীদের গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নারী-শিশু নির্যাতন মামলার আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টিকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, পুলিশ এ ধরনের তৎপরতা চালিয়ে গেলে এলাকায় অপরাধের হার অনেকটাই কমে আসবে।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের সমন্বিত অভিযান শুধু পলাতক আসামিদের ধরার ক্ষেত্রেই নয়, বরং অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করবে। কারণ অপরাধীরা জানবে, নিয়মিত অভিযান চলছে এবং তারা যেকোনো সময় ধরা পড়তে পারে।

থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেছেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে। কিছু এলাকায় পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় সচেতন মানুষজন। এই সহযোগিতার কারণে কয়েকজন আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আলমডাঙ্গায় অস্ত্র, চুরি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। এ কারণে পুলিশ আগাম পরিকল্পনা করে এই বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের আগে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, আসামিদের অবস্থান শনাক্তকরণ এবং টিম ভাগ করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। ফলে অভিযান সফল হয় এবং এক রাতেই ১০ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

এই অভিযানের মাধ্যমে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ আবারও প্রমাণ করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে তারা সর্বদা প্রস্তুত এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সবাই বসবাস করতে পারে।

প্রিন্ট করুন