চুয়াডাঙ্গার গর্বিত সন্তান আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক অর্জন করলেন বাংলাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ রেমিটার্স সম্মাননা-২০২৫। প্রবাসে থেকে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ও সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে টরিক দেশের জন্য রেমিট্যান্স প্রেরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সম্মাননা প্রদানের এ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ জুলাই সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত নভোটেল হোটেলে। অগ্রণী ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আহসান এইচ মনসুর। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ড. নজরুল ইসলাম, এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকে দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত রেমিট্যান্স প্রেরণ করে পরিবার, সমাজ এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছেন, তাদের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিকের অবদানকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, সততা ও দেশপ্রেমের কারণে তিনি শুধু প্রবাসী সমাজেই নয়, নিজ জেলার মানুষের কাছেও একজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাহিদুজ্জামান টরিক এর আগে পরপর ছয়বার চুয়াডাঙ্গা জেলার শ্রেষ্ঠ রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে তার অবদান কোনো এককালীন অর্জন নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রেখে যাচ্ছেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় টরিক বলেন,
“এই সম্মাননা শুধু আমার নয়, বরং সকল প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য। আমরা প্রবাসে থেকেও দেশের কথা ভাবি, দেশের জন্য কাজ করি। এ অর্জন আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য।”
তার এই সাফল্যে চুয়াডাঙ্গার মানুষের মধ্যে গর্বের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এ ধরনের অর্জন প্রবাসী তরুণদের আরও অনুপ্রাণিত করবে বিদেশে গিয়ে বৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন এবং তা দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে।
বাংলাদেশ রেমিটার্স সম্মাননা কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আত্মত্যাগ ও অবদানের এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি। আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিকের এই অর্জন প্রমাণ করে, সুযোগ ও নিষ্ঠা থাকলে প্রবাসের মাটিতেও দেশপ্রেমের বীজ সমানভাবে বিকশিত হয়। তার এই ধারাবাহিক সফলতা দেশের রেমিট্যান্স খাতে আরও ইতিবাচক উদ্দীপনা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি