চুয়াডাঙ্গা: ‘সেবার ব্রতে চাকরি’—এই মূলমন্ত্রে স্মার্ট পুলিশ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন নিয়মে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বুধবার (১৩ আগস্ট ২০২৫) সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ লাইনসে শারীরিক মাপজোখ ও কাগজপত্রের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা এর নেতৃত্বে বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাই করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন—পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধি ও নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স) মাসুমা আক্তার; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডেভেলপমেন্ট রেভিনিউ-২), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা’র মোহিত চৌধুরী; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), মেহেরপুরের আবদুল করিম; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কোটচাঁদপুর সার্কেল), ঝিনাইদহের মোঃ মুন্না বিশ্বাস; উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, চুয়াডাঙ্গা সদরের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ তারেক জুনায়েত ও ডা. মোছাঃ রেশমা খাতুন এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দিনভর সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নিরপেক্ষ পরিবেশে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পুলিশ সুপার প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন,
“কনস্টেবল পদে নিয়োগ হবে শতভাগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত। শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অন্যান্য ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই কেবল প্রার্থীরা নিয়োগ পাবেন। যারা এই পদে যোগ দেবেন, তারা সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতায় সুযোগ পাবেন—তাদের বা তাদের পরিবারের কেউ যেন দালাল বা প্রতারক চক্রের খপ্পরে না পড়েন।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রলোভন, সুপারিশ বা অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে এবং যেকোনো প্রতারণার প্রচেষ্টা সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।
প্রথম দিনের প্রাথমিক যাচাইয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ১৪ ও ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় (Physical Endurance Test—PET) অংশ নেবেন। PET পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে তাদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের নতুন নিয়মে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবারও জেলা পর্যায়ে শারীরিক মাপজোখ, সক্ষমতা যাচাই, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে। নিয়োগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে, যাতে যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক প্রার্থীরাই পুলিশের দলে যুক্ত হতে পারেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধ