ফারাক্কার কপাট খুলে দেওয়ার পর থেকে কুষ্টিয়ার পদ্মা ও গড়াই নদীতে পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়ে বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেছে। গত এক সপ্তাহে পানি বেড়েছে প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার, যা বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ৩টায় বিপৎসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
পানির এই বৃদ্ধিতে জেলার দৌলতপুর উপজেলার অন্তত ৪০-৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির ফসলি ক্ষেত। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বহু রাস্তাঘাট ও স্কুল প্লাবিত হওয়ায় ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়েছে। গবাদিপশুর গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, বাথান ভেঙে গরু-মহিষ সরিয়ে নিতে হচ্ছে নিরাপদ স্থানে।
এদিকে কুষ্টিয়া শহরের নিম্নাঞ্চলও তলিয়ে গেছে, পদ্মা ও গড়াই নদীর তীরবর্তী নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে পানি ঢুকে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, লোকালয়ে পানি প্রবেশ রোধে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, মরিচ, রোপা আউশ, কলা, সবজি ও ভুট্টাসহ প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে অবশিষ্ট ক্ষেতও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ জানান, বন্ধ রাখা স্কুলগুলো বন্যাকবলিত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খোলা থাকবে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি