ঝিনাইদহের একমাত্র আড়াইশ বেড হাসপাতাল বর্তমানে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০ রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তীব্র রোগী চাপের কারণে হাসপাতালের ওষুধের মজুদ সংকটে পড়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয়রা দিনরাত রোগী সামলাতে ব্যস্ত।
হাসপাতাল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন মাসে আউটডোরে ৩৬,৬৯৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছিলেন এবং ভর্তি হয়েছেন ৪৮৩ জন। জুলাইয়ে আউটডোর রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৪৮,৩৮৭ জন হয়েছে এবং ভর্তি হয়েছেন ৫৩৮ জন, যা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা থেকে ২৮৮ জন বেশি।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সব সিট ভরা, বারান্দা, করিডোর ও মেঝেতেও রোগী ভর্তি। ভর্তি রোগী ও দর্শনার্থীর ভিড়ে হাসপাতালের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ডবয়রা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছেন। সামান্য অবহেলা বা ব্যত্যয় ঘটলেই রোগীরা তুলকালাম বাধিয়ে দিচ্ছেন।
রোগীদের অভিযোগ, বিশেষ করে গাইনি, হাড়জোড় ও সার্জিক্যাল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি থাকার কারণে তারা ধৈর্য্য হারিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন। অনেক সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিজে রোগীদের ক্লিনিকে পাঠাচ্ছেন। চায়না বেগম নামের এক রোগী জানান, মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু পরের দিনে আরেকজন চিকিৎসক রাউন্ডে এসে তাকে ছাড়িয়ে দিলেন। ফলে তিনি কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি। মরিয়ম বেগম নামের এক গাইনি রোগীও জানান, সিজারের জন্য ভর্তি হলেও পরবর্তী রাউন্ডে আরেক চিকিৎসক তাকে ক্লিনিকে পাঠিয়েছেন।
হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. জাকির হোসেন বলেন, “বর্তমান রোগীরা খুব ভীত ও ধৈর্য্য কম। সামান্য ভাইরাস জ্বর হলেই তারা আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে চাপ দেন। সাধারণত ভাইরাস জ্বর ৫-৭ দিনের মধ্যে সেরে যায়। রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ না মানায় চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সুমন আহম্মেদ জানান, ভাইরাস জ্বরের মৌসুমে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। সামান্য জ্বর হলেও মানুষ আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে আসছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিদ্যমান সমস্যা ও রোগীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে তা সমাধান করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, হাসপাতালের পরিবেশ ও খাবারের মান উন্নত করার চেষ্টা চলছে। হাসপাতাল চত্বরে ফুলের গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করে রোগীদের চিকিৎসাযোগ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন, রোগীর চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যা এবং সেবার মান উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়া, জনগণকে সচেতন করা ও প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালে আসা কমানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

অনলাইন ডেস্ক