প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫ । ৫:৩৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মেহেরপুরে দীর্ঘ বৃষ্টিতে কৃষিজমি জলাবদ্ধ, ফসল ও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

অনলাইন ডেস্ক

মেহেরপুরে দীর্ঘ দুই মাস ধরে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে জেলার সবচেয়ে বড় ধলার মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় আউশ ও আমন ধান, কলা, মরিচ ও শীতকালীন সবজি চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ভেসে গেছে মাছের ঘের। কৃষকরা জানাচ্ছেন, জমির পানি দ্রুত না নামলে কেবল এ মৌসুমের ফসলই নয়, পরবর্তী মৌসুমের আবাদও ব্যাহত হবে। এতে খাদ্য সংকট ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ধলার মাঠে সরেজমিনে দেখা গেছে, চোখে যতদূর যায়, শুধু পানি আর পানি। কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও কোমর সমান, আবার কিছু জায়গায় বুক সমান পানি জমে আছে। অনেক কৃষক আগেভাগেই পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন, সবজিখেত পচে নষ্ট হচ্ছে এবং কলাখেতও হুমকির মুখে পড়েছে। পূর্বে যেখানে গরু-মহিষের গাড়িতে ফসল পরিবহন করা হতো, সেখানে এখন কৃষকরা বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকা ব্যবহার করছেন।

কৃষকরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হলে এ অঞ্চলে ভয়াবহ খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে। তারা দাবি করেছেন, খাল খনন ও কাজলা নদীতে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে কালভার্ট নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

ধলাগ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী জানিয়েছেন, তিনি ৪ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছিলেন, কিন্তু কাটার আগেই জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মাইলমারি গ্রামের কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, “পানি না নামলে এবার ফসল তুলতে পারব না, পাশাপাশি আগামী মৌসুমের আবাদও ব্যাহত হবে।” নওপাড়ার মনিরুল ইসলাম জানান, ধলার মাঠে খাল খনন হলেও কালভার্ট না থাকায় পানি জমে থাকে। পাট জাগ দেওয়ার কারণে খালের পানি চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে, ফলে অন্তত ১০ গ্রামের কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, এত বিপুল ক্ষতির পরেও মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগ কার্যকর সহযোগিতা দিচ্ছে না। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন বলেন, “ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খনন ও কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।”

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ এবং ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে ধলার মাঠে। ফলে এই মাঠে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় জেলাজুড়ে খাদ্য ঘাটতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রিন্ট করুন