জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-কে এই তথ্য দিয়েছেন বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
ওসি জানান, মামলার সাক্ষীর বিরুদ্ধে দুটি ব্যানার টানানো হয় এবং মিছিলের আয়োজন করা হয়। ঘটনার সঙ্গে মূলত যুক্ত ছিলেন ছাত্রদলের কিছু সদস্য, পাশাপাশি সাক্ষীর কর্মস্থলের কিছু শিক্ষকও জড়িত ছিলেন। ঘটনার পর এই ব্যানারগুলো অপসারণ করা হয়েছে, যা ট্রাইব্যুনালের নজরে এসেছে।
তদন্তের সময়, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, “যে দলেরই হোক, সবগুলোকে ধরবেন। আমরা সবকটিকে কাস্টডিতে পাঠাব। আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের জানান।” ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করেছে। প্রতিটি দলেই কিছু উচ্ছৃঙ্খল সদস্য থাকতে পারে। কেউ তাদের দলের আদর্শ মনেপ্রাণে ধারণ করে না, তবে কার্যক্রমে দেখা যায় না। এই ধরনের ছাত্রও কখনো সহায় বা বাধা হিসেবে যুক্ত হতে পারে।”
এর আগে ১৪ আগস্ট, প্রসিকিউটর সাক্ষীর নিরাপত্তার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। তিনি জানান, মামলার সাক্ষী জবানবন্দি দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় কর্মস্থলের কিছু ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে হুমকিস্বরূপ কার্যক্রম চালান। ছবির ও ভিডিওর প্রমাণের ভিত্তিতে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল পুলিশ ও সাক্ষীর কর্মস্থলের প্রধানকে নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল আরও নির্দেশ দেন ব্যানার ও পোস্টার অপসারণের ব্যবস্থা নিতে এবং ঘটনা সম্পর্কিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে। এই পদক্ষেপগুলো মূলত সাক্ষীর নিরাপত্তা ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নেয়া হয়েছে।
চানখাঁরপুল মামলার ঘটনায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক দল ও শিক্ষাজীবীর কিছু অংশের কার্যক্রম সাক্ষীর ওপর চাপ তৈরি করেছে। তবে ট্রাইব্যুনাল পুলিশকে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলাকালীন সাক্ষীর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চাপ দুই দিকেই নজর রাখতে হবে। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা নিশ্চিত করছে যে, আইন ও স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

অনলাইন ডেস্ক