প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫ । ১০:৫১ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মোবাইল রিচার্জে ১% সারচার্জ নিয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক

মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ওপর আরোপিত ১ শতাংশ হারে উন্নয়ন সারচার্জ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে হাইকোর্ট আজ রুল দিয়েছেন। একই সঙ্গে, এই সারচার্জ প্রত্যাহার বা বাতিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা বা ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সোমবার দেওয়া রুলে বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি মো. হামিদুর রহমান-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়েছেন। এই রিট করা হয় বেসরকারি সংগঠন কনশাস কনজ্যুমার সোসাইটি (সিসিএস)-এর পক্ষ থেকে। রিটে মোবাইল ফোনে ১ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে এম আজাদ হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।

আইনজীবী আজাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, “২০১৫ সালে উন্নয়ন সারচার্জ ও লেভি (আরোপ ও আদায়) আইন প্রণয়ন করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের মার্চ থেকে প্রতিটি মোবাইল অপারেটরকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা ১০০ টাকা রিচার্জের বিপরীতে ১ টাকা করে গ্রাহকের কাছ থেকে কেটে সরকারকে জমা দেবে। তবে আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি, এই সারচার্জ কিসের জন্য নেওয়া হবে। গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, এটি পদ্মা সেতুর জন্য কাটা হচ্ছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “২০১৬ সাল থেকে প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেছে, অথচ সারচার্জ এখনও আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া সারচার্জ আরোপের আইন দেশের বিদ্যমান আইনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংবিধানের ৮৩ অনুচ্ছেদে এই বিষয়ে আইন প্রণয়নের কথা বলা আছে। তবে ১ শতাংশ সারচার্জের আইন অস্পষ্ট এবং অনুচ্ছেদের শর্ত পূরণ করছে না। এ কারণেই রিট করা হয়েছে।”

গণমাধ্যমে ২৫ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে চারটি মোবাইল অপারেটরের অধীনে প্রায় ১৯ কোটি গ্রাহক রয়েছে। ভয়েস কল, ইন্টারনেটসহ নানা সেবা ব্যবহার করতে তারা নিয়মিত রিচার্জ করেন। তবে রিচার্জকৃত অর্থের একটি অংশ এখনও পদ্মা সেতুর অর্থায়নে চলে যাচ্ছে।

২০১৬ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সারচার্জ, পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন হওয়া সত্ত্বেও, এখনও গ্রাহকদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবার ১০০ টাকার রিচার্জে ১ টাকা কেটে নেওয়া হয় পদ্মা সেতু উন্নয়ন ফান্ড-এর নামে।

প্রিন্ট করুন