চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসা অবহেলার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের সময় রোগীর পায়ুপথের গুরুত্বপূর্ণ নালি কেটে ফেলার অভিযোগে ভুক্তভোগীর পরিবার ক্লিনিক মালিক ও চিকিৎসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে মিনারুল ইসলাম নামে ওই রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
ভুক্তভোগীর বাবা নজরুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা আমলী আদালতে তারা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—দেশ ক্লিনিকের পরিচালক হাসিবুল হক শান্ত, ক্লিনিকের ম্যানেজার ইয়াকুব আলী, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মশিউর রহমান এবং সার্জন ডা. এহসানুল হক তন্ময়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ জুন চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসপাতাল রোডের দেশ ক্লিনিকে মিনারুল ইসলামের অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের দুই দিন পর তাকে বাড়ি পাঠানো হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে আবারও ক্লিনিকে ভর্তি করানো হলেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়।
অবশেষে ৪ আগস্ট স্বজনদের সহায়তায় মিনারুলকে ঢাকার ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, অপারেশনের সময় রোগীর পায়ুপথের নালি কেটে ফেলা হয়েছে। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রথমে এক লাখ এবং পরে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে আইনের আশ্রয় নেয়।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেশ ক্লিনিকের পরিচালক হাসিবুল হক শান্ত। তার দাবি, “ভুল অপারেশন হলে তাৎক্ষণিক জটিলতা দেখা দিত। চিকিৎসকদের ধারণা, রোগীর বমির কারণে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের নাড়ির বাঁধন খুলে এমন হতে পারে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্যখাত ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর সেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি