শিক্ষক শুধু পাঠদাতা নন; তিনি হয়ে ওঠেন একটি প্রজন্মের পথপ্রদর্শক, অনুপ্রেরণা ও শ্রদ্ধার প্রতীক। তাই শিক্ষক যখন অবসরে যান, তা কেবল চাকরি থেকে বিদায় নয়—বিদায় হয় এক দীর্ঘ স্মৃতি, সম্পর্ক ও ভালোবাসার আবহ থেকে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক সায়েদুর রহমানের অবসরও তেমনই এক আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।
গত রবিবার (৩১ আগস্ট) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকরা। বিদায়ী শিক্ষক সায়েদুর রহমান দীর্ঘ ৩০ বছরের শিক্ষকতা শেষে অবসর গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ের সূচনা থেকে তার নিবেদিতপ্রাণ অবদান শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে তাকে স্থান দিয়েছে একজন শ্রদ্ধেয় অভিভাবকের মতো।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “এমন রাজকীয় বিদায় শুধু একটি বিদ্যালয়ের ইতিহাস নয়, গোটা অঞ্চলের জন্য এক গর্বের বিষয়।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউসসহ সহকর্মীরা তার দীর্ঘ সঙ্গ, পরামর্শ ও অবদানের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হন। বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামীমুর রহমান সবুজ জানান, প্রিয় শিক্ষককে এভাবে বিদায় দিতে পেরে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন।
অবসর উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননা প্রদানের পর সায়েদুর রহমানকে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয়ভাবে তার নিজ গ্রাম ছাতিয়ানতলায় পৌঁছে দেওয়া হয়। সেই মুহূর্তে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের অশ্রু, সহকর্মীদের ভালোবাসা আর মানুষের আন্তরিকতা মিলে বিদায়টি হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য।
নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সায়েদুর রহমান বলেন, “প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখানে ছিলাম। আজকের এ বিদায় আমাকে আপ্লুত করেছে। সবার ভালোবাসা ও দোয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি