প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ । ১১:৪০ এএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বরাদ্দের ২৪ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কম্পিউটার সরঞ্জাম কেনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ দেওয়া ২৪ লাখ টাকা খরচ দেখানো হলেও এর কোনো ব্যবহার বা উপকরণের হদিস মিলছে না। হাসপাতালের স্টোরে এসব সামগ্রী পৌঁছায়নি, অথচ বরাদ্দের পুরো অর্থ তোলা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, গত ১ জুলাই সদর হাসপাতালের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী ক্রয়ে ২০ লাখ এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কেনায় ৪ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এসব সামগ্রী ক্রয়ের পর সেগুলো প্রথমে হাসপাতালের স্টোরে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সামগ্রী স্টোরে জমা হয়নি। অথচ বরাদ্দের টাকা ইতিমধ্যেই উত্তোলন ও ব্যয় দেখানো হয়েছে।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কই সরাসরি অর্থ ও উপকরণ তদারকি করেন। কিন্তু এবারের বরাদ্দের ক্ষেত্রে তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “পুরো বরাদ্দের টাকা কোথায় গেল, তা নিয়ে এখন কেউ কোনো উত্তর দিতে পারছে না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুত কুমার প্রথমে নীরব থাকেন। পরে সংক্ষেপে বলেন, “বিষয়টি দেখতে হবে, তারপর জানাতে পারবো।” তবে তিনি কবে বা কীভাবে ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো জবাব দেননি।

জেলার প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অর্থ কেলেঙ্কারি স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাবেক সভাপতি নাজমুল হক স্বপন বলেন, “স্বাস্থ্য খাতে এর আগেও দুর্নীতির খবর এসেছে। এবার সদর হাসপাতালের এ ঘটনা আরও উদ্বেগজনক। পুরো বরাদ্দের টাকা যদি গায়েব হয়ে যায়, তাহলে স্বাস্থ্যসেবার মান কীভাবে বজায় থাকবে?”

চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজীব হাসান কচিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এটা গোপন কোনো বিষয় নয়। প্রকাশ্য বরাদ্দের টাকা যদি এভাবে লোপাট হয়, তবে অন্য বরাদ্দের কী অবস্থা তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত।”

জনগণের করের টাকা দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেটি যদি যথাযথভাবে ব্যবহার না হয়, তবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত না করলে এই ধরণের দুর্নীতি আরও বেড়ে যাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

প্রিন্ট করুন