প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ । ৬:০১ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের উপজেলার ভৈরব নদের প্রবল স্রোতে পর পর ২ টি ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ার হাজারো মানুষ ঘরবন্দী

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের সিংনগর বাঁওড়ের বাঁধ ভেঙ্গে প্রবল স্রোতে এবার ভেঙ্গে পড়েছে সন্তোসপুর গ্রামে প্রবেশের একমাত্র ব্রীজ। প্রবল স্রোতে সোমবার ভেঙ্গেছে ভৈরব নদীর ওপর মনোহরপুর গ্রামের আরো একটি ব্রীজ। মঙ্গলবার রাতের কোন এক সময় সন্তোসপুর বাসস্ট্যান্ডের নিকট ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সন্তোসপুর সহ মানিকপুর,রাজাপুর,রতিরামপুর, সিংনগর, ধোপাখালী ও মাধবখালী গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। স্কুলে পড়া ছেলে মেয়েরা স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের কৃষি পণ্য ও ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা নেওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মব্যস্ত মানুষজন অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই ভাঙ্গা ব্রীজের ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বীজের একটি অংশ ভেঙ্গে পড়ে গেছে। এছাড়াও ব্রীজের চারিপাশে ফাটল দেখা গেছে। যখন তখন সম্পূর্ণ ব্রীজটি ভেঙ্গে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে সরজমিনে পরিদর্শনে আসেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-আমীন হোসেন।
এ সময় তিনি বলেন,ভৈরব নদীর পানির প্রবল স্রোতে দুইদিন আগে উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের একটি ব্রীজ ভেঙ্গে গেছে। আজকে আবার সন্তোসপুর গ্রামের ব্রীজটি ভেঙ্গে গেছে।ব্রীজটি এই এলাকার মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি পুননির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। তারা দ্রুতই এর একটা ব্যবস্থা করে দেবে।আর এখন মানুষ যেন যাতায়াত করতে পারে সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা কি করা যেতে পারে সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
জীবননগর উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন,ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। এই ব্রিজটি স্বাধীনতা যুদ্ধের পরপরই নির্মাণ করা।এটা আমাদের এলজিডি ডিপার্টমেন্ট থেকে করা ছিলো না।এটা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে করা হয়েছে। এই ব্রীজের ওপর দিয়ে আমাদের একটা রাস্তা চলে গেছে প্রাথমিকভাবে ব্রীজের যে অবস্থা দেখলাম তাতে করে এটা মেরামত যোগ্য না।নতুন করে ব্রীজ নির্মাণ করতে হবে। আমরা আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে নতুন ব্রীজের জন্য প্রস্তাব পাঠাবো।তবে সময় লাগবে।
উথলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রায় সাত থেকে আটটি গ্রামের মানুষ ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে। স্কুলে পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া আজকে বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, ব্রিজটি আমাদের গ্রাম সহ আরও সাত থেকে আটটি গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা, আমারা ঘরবন্দী হয়ে পড়েছি।বিকল্প উপায়ে পারাপারের ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।

প্রিন্ট করুন