চুয়াডাঙ্গায় এক সঙ্গীত শিক্ষিকাকে স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় গ্রেফতার করেছে দর্শনা থানা পুলিশ। তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় শিক্ষিকার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বাড়ির আসবাবপত্র নষ্ট করা হয় এবং খাদ্যসামগ্রী মাটিতে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারটির দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ঘটনা। তবে পুলিশ বলছে, সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া শিক্ষিকা দর্শনা গার্লস হাই স্কুল ও পূর্ব রামনগর বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে দর্শনা থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর শরিফের বাসায় নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং পরে হুমকি দিতে থাকেন। মামলা করার উদ্যোগ নিলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় মিথ্যা আসামি করা হয়।
শিক্ষিকার মা বলেন, “শরিফ তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আমার মেয়ের জীবন ধ্বংস করেছেন। আমরা আইনের আশ্রয় নিতে চেয়েও পারিনি।” ভাইয়ের অভিযোগ, “সত্য প্রকাশ করায় বোনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বর দর্শনা সীমান্তে বিজিবি তিনটি স্বর্ণের বারসহ আসমা বেগম নামে এক নারীকে আটক করে। পরে আসমা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ওই শিক্ষিকার নাম উল্লেখ করেন। এর ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, “পুতুল নামের এই শিক্ষিকা একজন সঙ্গীত শিক্ষক, তাকে কখনো কোনো অবৈধ ব্যবসায় জড়িত দেখা যায়নি। হঠাৎ স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় তার গ্রেফতার সন্দেহজনক।”
দর্শনা থানার ওসি শহীদ মুহাম্মদ তিতুমীর বলেন, “বিজিবির মামলার ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্য কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয় আমাদের জানা নেই।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ারুল কবির জানান, “শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা ছিল, গ্রেফতার আইনানুগভাবে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওর সঙ্গে এ ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক নেই।”
স্থানীয়ভাবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যা এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত বিষয় হয়ে আছে।

অনলাইন ডেস্ক