শিরোনাম:

স্কলারশিপ

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপে স্বপ্ন ছুঁয়েছেন মেধাবী মীম

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপে স্বপ্ন ছুঁয়েছেন মেধাবী মীম

বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মেধাবী শিক্ষার্থী মোসা. মীম আক্তার। অক্লান্ত পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন প্রায় ৩৬ কোটি টাকার সমতুল্য ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ। তার এই অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়, বরং পুরো দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে উঠেছে।

শুরুটা কোথা থেকে

মীমের শৈশব কেটেছে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে। চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া বেড়ে ওঠা এই মেয়েটির উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বরাবরই ছিল আকাশছোঁয়া। স্কুলজীবন থেকেই পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। জিপিএ-৫ পাওয়া, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ, ভাষা শেখা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে সে নিজেকে তৈরি করে তোলে ভিন্নভাবে।

তার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা হয় একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ে, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। কিন্তু স্বপ্ন ছিল ব্যতিক্রম—বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের।

স্বপ্নপূরণের যাত্রা

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ও প্রস্তুতির পাশাপাশি মীম বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজতে শুরু করেন। SAT, TOEFL এবং IELTS-এর প্রস্তুতি নেন অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে। নিজে নিজেই বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করে অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত করেন— SOP (Statement of Purpose), Recommendation Letter, Extracurricular Profile, Essay Writing ইত্যাদি।

শুধু তা-ই নয়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই, স্কলারশিপের ধরন, ফান্ডিং প্রসেস, এবং আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে গবেষণা করেন। প্রতিটি আবেদনেই নিজের গল্প তুলে ধরেন আন্তরিকভাবে।

২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ অফার পাওয়া নিঃসন্দেহে এক ব্যতিক্রমধর্মী অর্জন। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে:

  • University of California, Berkeley
  • University of Michigan
  • University of North Carolina at Chapel Hill
  • New York University (NYU)
  • University of Illinois at Urbana-Champaign
  • Boston University
  • Syracuse University
  • Purdue University
  • University of Wisconsin-Madison
  • এবং আরও অনেক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মীমের মোট স্কলারশিপ মূল্য প্রায় ৩.৬ কোটি টাকা নয়, বরং ৩৬ কোটি টাকা—যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৩ মিলিয়ন। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তার মেধা, নেতৃত্বগুণ, সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তিতে তাকে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ প্রদান করেছে।

মীমের বক্তব্য

এই অভাবনীয় অর্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে মীম বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি একসঙ্গে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ পাব। তবে বিশ্বাস ছিল, যদি সৎভাবে পরিশ্রম করি, একদিন সাফল্য আসবেই। আমি কৃতজ্ঞ আমার শিক্ষক, পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি—যারা আমাকে নিরন্তর সমর্থন করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি চাই, আমার মতো বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যেন নিজের স্বপ্নকে বড় করে দেখতে শেখে। ইন্টারনেট আর তথ্যভাণ্ডার এখন সবার হাতের মুঠোয়—শুধু প্রয়োজন সঠিকভাবে কাজে লাগানো।”

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

মীমের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী এবং মা গৃহিণী। মেয়ের এই সাফল্যে তাঁরা আবেগে আপ্লুত। তার মা বলেন, “আমাদের স্বপ্ন ছিল মীম একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। আজ তা সত্যি হয়েছে। ওর এই সাফল্য আমাদের কাঁধে আরও দায়িত্ব দিয়েছে—আরও অনেক মেয়েকে উৎসাহ দেওয়ার।”

শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কী বলছে

মীমের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “মীমের সাফল্য আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা সবসময় এমন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করি যারা নিজেদের প্রচেষ্টায় এগিয়ে যেতে চায়। মীম সেই দৃষ্টান্ত।”

মীমের সাফল্য দেখে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও এখন উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। অনেকেই মীমকে রোল মডেল হিসেবে দেখছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এখন আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইংরেজি ভাষা, অনলাইন রিসোর্স ব্যবহারের প্রশিক্ষণ, এবং আন্তর্জাতিক সুযোগের জন্য প্রস্তুতির বিষয়ে।

অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে

মীমের গল্প বাংলাদেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। বিশেষ করে যারা ভাবেন, শুধু ধনী পরিবার থেকেই বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ সম্ভব—তাদের ধারণা বদলে দিচ্ছে এই গল্প। মীম দেখিয়ে দিয়েছেন যে, সংকল্প থাকলে সীমাবদ্ধতাকে জয় করা সম্ভব।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মীম বর্তমানে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (NYU) পড়াশোনা করতে আগ্রহী। সেখানে তিনি সামাজিক বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়বেন। তাঁর লক্ষ্য জাতিসংঘ বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করে বৈশ্বিক বৈষম্য, নারী অধিকার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যুতে কাজ করা।

মীম বলেন, “আমি বাংলাদেশের নাম বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরতে চাই। আমি চাই বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে বিশ্বাস করুক যে, সে পারবে।”

শেষ কথা

মীম আক্তারের এই অর্জন নিছকই একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং তা জাতীয় পর্যায়ে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তার এই অভাবনীয় অর্জন আরও প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রম যদি সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পায়, তাহলে তারা বিশ্বজয় করতেই পারে।

প্রফেশনাল গাইড: ল্যাপটপ ও পিসি কেনার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন না

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপে স্বপ্ন ছুঁয়েছেন মেধাবী মীম

প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে, আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আমাদের কাজের পরিধি। আপনি শিক্ষার্থী হোন কিংবা পেশাদার ডেভলপার, সঠিক ডিভাইসের অভাব আপনার ক্যারিয়ারের গতি কমিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশের টেক মার্কেটে জেনুইন ইমপোর্টারদের হাত ধরে এখন গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড ডিভাইসগুলো হাতের নাগালে।

পারফরম্যান্সের মাপকাঠি: সঠিক কনফিগারেশন নির্বাচন

ডিভাইস কেনার সময় আমরা প্রায়ই প্রসেসর নিয়ে দ্বিধায় পড়ি। বাজারের বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী:

  • এন্ট্রি লেভেল: সাধারণ ব্রাউজিং বা স্টুডেন্টদের জন্য Core i3 laptop সবচেয়ে ভালো অপশন।
  • মিড-রেঞ্জ: ফ্রিল্যান্সিং বা ভারি অফিশিয়াল কাজের জন্য Core i5 laptop ব্যালেন্সড পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।
  • পাওয়ার ইউজার: যারা ভিডিও এডিটিং বা বড় প্রজেক্টে কাজ করেন, তাদের জন্য Core i7 laptop এর কোনো বিকল্প নেই।

ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ: কোনটি আপনার জন্য?

যদি আপনার কাজের জন্য মুভমেন্টের প্রয়োজন হয়, তবে ল্যাপটপই সেরা। সেক্ষেত্রে Lenovo laptop অথবা স্টাইলিশ HP laptop কালেকশন দেখতে পারেন। বাজেটের মধ্যে প্রিমিয়াম ফিল পেতে Lenovo IdeaPad এবং আধুনিক ফিচারের জন্য Asus laptop দারুণ অপশন।

অন্যদিকে, যারা দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করেন, তাদের জন্য ডেস্কটপ সাশ্রয়ী এবং পাওয়ারফুল। ব্র্যান্ডেড পিসির মধ্যে Dell desktop এবং HP desktop করপোরেট লেভেলে দারুণ সমাদৃত। তবে টেবিলের সৌন্দর্য বজায় রাখতে চাইলে HP All-in-One PC হতে পারে আপনার স্মার্ট চয়েস।

গেমিংয়ে নতুন মাত্রা: সেরা ডিল

বর্তমানে গেমারদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে হাই-রিফ্রেশ রেট সম্পন্ন ডিসপ্লে এবং শক্তিশালী জিপিইউ। আপনি যদি লেটেস্ট ট্রিপল-এ গেমগুলো অনায়াসে খেলতে চান, তবে Gaming laptop যাচাই করে দেখা বুদ্ধিমানের কাজ। এই ক্যাটাগরিতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে Lenovo LOQ, যা পারফরম্যান্স এবং দামের এক চমৎকার সমন্বয়।

বিশ্বস্ততার সাথে সেরা বাজেট ডিল

আপনার কষ্টার্জিত টাকার সঠিক মূল্যায়ন পেতে সঠিক শপ নির্বাচন করা জরুরি। অনেকেই অনলাইনে Budget laptop সার্চ করে ধোঁকায় পড়েন। এক্ষেত্রে ASES Tech সরাসরি ইমপোর্ট করা অরিজিনাল ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ পিসি নিশ্চিত করছে, যা আপনাকে দেবে মানসিক প্রশান্তি ও দীর্ঘস্থায়ী সার্ভিস।

আলমডাঙ্গায় একসাথে ৩ সন্তানের জন্ম

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপে স্বপ্ন ছুঁয়েছেন মেধাবী মীম

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বকশীপুর গ্রামে বিরল এক আনন্দঘন ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাহাবুল ইসলামের মেয়ে মারুফা খাতুন একসাথে তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন—এক পুত্র ও দুই কন্যা। আজ বিকেলে আলমডাঙ্গা শহরের ফাতেমা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এই তিন নবজাতকের জন্ম হয়।

চিকিৎসক দল জানায়, মা ও নবজাতকরা বর্তমানে সুস্থ আছেন। তবে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে যেন জন্ম-পরবর্তী সময়ে কোনো জটিলতা দেখা না দেয়। তিন সন্তানের একসাথে জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পরিবারটির খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করছেন ক্লিনিক প্রাঙ্গণে।

জানা যায়, দুই বছর আগে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মিন্টু শেখের সাথে মারুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করছিলেন। আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্তে তিন সন্তানের জনক মিন্টু শেখ বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা ভালো আছে। আমি সবার কাছে দোয়া চাই যেন আল্লাহ আমার সন্তানদের সুস্থ রাখেন এবং নেক আমলদার বানান।”

গ্রামজুড়ে এখন আলোচনার বিষয় একটাই—একসাথে তিন সন্তানের আগমন। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা এই নবজন্মকে আল্লাহর বিশেষ আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। অনেকে বলেন, এটি একদিকে যেমন এক অসাধারণ খুশির খবর, তেমনি ভবিষ্যতে শিশুদের লালন-পালনে সমাজের সহযোগিতাও প্রয়োজন হবে।

সবার মুখে এখন একটাই কথা—“আল্লাহ যেন মারুফা ও তার সন্তানদের সুস্থ, সুন্দর ও বরকতময় জীবন দান করেন।”

ফিলিস্তিন ইসরাইলি

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার দুই বছরে নিহত ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপে স্বপ্ন ছুঁয়েছেন মেধাবী মীম

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক আক্রমণের জবাবে শুরু হওয়া ইসরাইলের পাল্টা অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। নারী ও শিশুদের বড় অংশ এই নিহতদের মধ্যে রয়েছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর নির্বিচার হামলায় গাজা আজ পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে, যেখানে খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের মারাত্মক সংকটে দিন কাটছে বেঁচে থাকা মানুষদের।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক অভিযানের পরই ইসরাইল গাজা উপত্যকায় সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে। ‘হামাস নির্মূলের অভিযান’ নামে টানা দুই বছর ধরে চলে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ, অবরোধ ও হত্যাযজ্ঞ। এতে গাজার অবকাঠামো, হাসপাতাল, স্কুল, এমনকি জাতিসংঘ পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রও ধ্বংস হয়ে গেছে। মানবিক সহায়তা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে কয়েক লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ভুগছে।

চাথাম হাউসের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সানাম ভাকিল বলেন, “দুই বছর ধরে গাজায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। কিন্তু তারা আসলে কী অর্জন করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। যদিও হামাসসহ ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক কিছুটা দুর্বল হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিকভাবে তেল আবিব অভূতপূর্বভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।”

অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ (Genocide) হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তাদের জীবিকা ও অস্তিত্বের পরিবেশ ধ্বংস করেছে—যা জাতিগত নিধনের সংজ্ঞার সঙ্গে মিলে যায়।

সানাম ভাকিল আরও বলেন, “গাজায় গণহত্যার চূড়ান্ত রূপ ফুটে উঠেছে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে। তারা এমন জীবনযাত্রা চাপিয়ে দিয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।”

এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার (৬ অক্টোবর) ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, পুতিন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনগত কাঠামোর ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে রাশিয়ার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় এক সপ্তাহ পর ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধে ২০ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেন। প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার পুনর্গঠন, এবং আটক ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হামাসের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়, যা বিশ্বব্যাপী স্বাগত পেয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও এই পরিকল্পনার প্রশংসা করে বলেছেন, “যেকোনো মানবিক সমাধানই গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।”

দুই বছর পরও গাজার আকাশে এখনও যুদ্ধবিমান উড়ছে, ধ্বংসস্তূপে পড়ে আছে হাজারো দেহ, এবং বিশ্ববিবেকের কাছে প্রশ্ন জাগছে—ফিলিস্তিনের এই অবরুদ্ধ ভূমিতে মানবতার মুক্তি কবে আসবে?