৫৪ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি মেহেরপুরের গাংনীর ঝোড়পাড়া-মহিষাখোলা ৪ কিলোমিটার সড়কে
ধীনতার ৫৪ বছর পরও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি মেহেরপুরের গাংনীর ঝোড়পাড়া-মহিষাখোলা ৪ কিলোমিটার সড়কে। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকা এই রাস্তা জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে চলাচল সম্ভব হলেও বর্ষাকালে বড় বড় গর্ত ও কাদায় পথ একেবারেই অচল হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি এলাকাবাসী ধানের চারা রোপণ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সমাজসেবক আবু সায়েম জানান, বর্ষায় কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতাল পৌঁছাতে ভোগান্তির শেষ নেই। কাঁধে করে কর্দমাক্ত পথ অতিক্রম করতে গিয়ে অনেক সময় রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে। এমনকি জানাজা বা কবরস্থানে লাশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।
শিক্ষক মিনহাজ উদ্দীন বলেন, কৃষি প্রধান এ অঞ্চলের কৃষকরা সময়মতো উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারেন না। ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হন। অনেক সময় কাদার কারণে ফসল মাঠেই নষ্ট হয়। অন্য রাস্তা দিয়ে বাজারে নিতে গেলে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়।
শিক্ষার্থী ইমন হোসেনের অভিজ্ঞতা আরও করুণ। প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যেতে গিয়ে কাদা লেগে জামাকাপড় নষ্ট হয়। অনেক সময় গোসল করে পোশাক পরিবর্তন করে আবার ক্লাসে যেতে হয়।
গৃহবধূ সাহানারা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিয়েশাদির মতো সামাজিক অনুষ্ঠানেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোনো সরকার বা জনপ্রতিনিধি আজও সমস্যার সমাধান করেননি।
রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম জানান, বর্ষায় রাস্তা পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সীমিত সহায়তা দেওয়া হলেও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন।
গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল হোসেন বলেন, সম্প্রতি রাস্তার আইডি নম্বর পাওয়া গেছে। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন আশ্বাস দিয়ে বলেন, জনগণের দুর্ভোগ দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















