কাদাজলে নাকাল চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসী
ধুলো ও কাদায় ভোগান্তিতে চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসী
শুষ্ক মৌসুমে উড়ন্ত ধুলোবালি, বর্ষায় রাস্তাজুড়ে কাদাজল—এ যেন চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসীর নিত্যসঙ্গী। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে শহরের অধিকাংশ সড়কের অবস্থা বেহাল। সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় প্রধান সড়কগুলো, তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। যদিও পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, সমস্যা সমাধানে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও চুয়াডাঙ্গা শহরের রাস্তাঘাট যেন খানাখন্দের রাজ্য। বহু স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যার ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হয়ে সড়কে জমে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি কখনো পুরো দিনও। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব প্রকট।
মাঝে মধ্যে ভাঙা রাস্তা মেরামতের কাজ হলেও তা টেকে না দুই সপ্তাহের বেশি। বড় বড় গর্তে আটকে যাচ্ছে যানবাহন, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ছোট-বড় যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়াও এখন নিয়মিত ঘটনা।
শহরের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতি বছর পৌরসভায় ভ্যাট-ট্যাক্স দেই, কিন্তু রাস্তার অবস্থা উন্নত হয় না। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না।”
প্রায় ৩৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত হয়। নাজুক সড়ক পরিস্থিতি এখন সবার জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় বাসা-বাড়িতে পানি উঠে পড়ছে।
বাসিন্দারা বলছেন, আশেপাশের গ্রামের রাস্তা শহরের রাস্তার চেয়ে ভালো। শহরের সড়কে যানবাহন চালানো একপ্রকার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়ক সংস্কারে ইতিমধ্যেই একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ২০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার সম্পন্ন করেছি। কাজগুলো শেষ হলে চুয়াডাঙ্গার রাস্তাঘাটের চেহারা পাল্টে যাবে এবং জনদুর্ভোগ কমে আসবে।”
তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এসব উন্নয়ন প্রকল্প যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, যাতে ধুলো ও কাদাজলের ভোগান্তি থেকে চুয়াডাঙ্গা শহর সত্যিই মুক্তি পায়।















