পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আসামি গ্রেফতার
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা এক সংবেদনশীল মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে আসামি সাদিক হোসেন (২৩) কে আটক করা হয়। তিনি কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার মসলেমপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের মোঃ মুকুলের ছেলে।
মামলার বাদী মোছাঃ তানজিলা তাবাচ্ছুম ঐশী (২২), পিতা মোঃ সহিদুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার কালিদাসপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাদীর সঙ্গে আসামি সাদিক হোসেনের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং নিয়মিত ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হতে থাকে। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসামি বাদীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
পরে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্মদিনের দাওয়াতের অজুহাতে আসামি বাদীকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার আল্লার দরগা এলাকায় তার নানার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাদীকে অচেতন করে তার অজান্তে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর আসামি সেই ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে বাদীকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন দাবি আদায়ের চেষ্টা করে। এমনকি ভিডিও মুছে ফেলার কথা বলে একাধিকবার দেখা করারও চাপ সৃষ্টি করে।
সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর বিকেলে আসামি আবারও বাদীর সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনে আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বাদী তার স্বামীকে বিষয়টি অবগত করেন। পরবর্তীতে স্বামী ও আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত হয়ে হাতেনাতে আসামিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা নং–১১, তাং–০৭/১০/২০২৫, ধারা–৮(১)/৮(২)/৮(৩) পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এবং ধারা ৩২৩ দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাসুদুর রহমান, পিপিএম জানান, “আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


















