Header Border

ঢাকা, সোমবার, ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)

পার্বনে ভরা দিন আজ, আছে দ্রোহ-বিদ্রোহও

 

‘বসন্ত বাতাসে সই গো, বসন্ত বাতাসে/ বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে’- বারো মাসে তেরো পার্বনের জনপদ বাংলায় আজ বসন্তের আঙিনায় এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস; আবার ভালোবাসা দিবসের প্রান্তরে বইছে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনের সুবাস। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের আগমন, তাতে আজ রঙ লেগেছে ভালোবাসার। আবার আজকের এই দিনেই একদল তরুণ প্রাণ দিয়েছিল শিক্ষার অধিকার চাইতে গিয়ে, সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে। মানুষকে ভালোবেসে মানবিক অধিকার আদায় করতে নিজের জীবনকেই উৎসর্গ করে গেছেন তারা। বসন্ত বাতাসে রয়েছে তাদের হারানোর বেদনাও।

 

ভারতীয় পুরাণে সৃষ্টিকর্তা বসন্ত ঋতুকেই তার ঐশ্বর্যের, শক্তির (বিভূতি) আধার বলেছেন। কারণ ফুলের সৌরভ-সমৃদ্ধ বসন্ত ঋতু নবপ্রাণের উন্মেষ ঘটায়; এই ঋতু সুখদায়ক। তাই হয়তো মদনদেব এই বসন্ততেই বার্তা আনেন, নর-নারীর মধ্যে সৃষ্টি করেন চিত্তচাঞ্চল্য; বিদ্ধ করেন প্রেমবাণে। মদনদেবের সঙ্গী-সাথী কারা? কোকিল, পারাবত, ভ্রমর, বসন্ত ঋতু ও মলয় বা দখিনা বাতাস। এই অর্থে বসন্ত আর প্রেম সমার্থক। শব্দতত্ত্বেও রয়েছে একই ধারণা। বসন্তের ‘বস্’ ধাতু থেকেই তো ভালোবাসা।

আজকের এই দিনেই সামরিক শাসনের বাতাবরণ ভেঙে মজিদ খানের শিক্ষানীতির কালো ছায়াকে দূর করতে প্রাণ দিয়েছিলেন জাফর-জয়নাল, দীপালি সাহাসহ অনেক শিক্ষার্থী। ১৯৮৩ সালের এই দিনটি তাই শিক্ষার্থীদের চেতনায় এখনও শোক ও ভালোবাসার স্মারক। সব মিলিয়ে রবীন্দ্রসংগীতের সেই পঙক্তিগুলোই মনে পড়ে যায় আজÑ ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে/ তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে/ তবু প্রাণ নিত্যধারা, হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,/ বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ্জোহরা মৌ। তিনি চান এ দিনটিকে অন্যভাবে পালন করতে। তিনি বললেন, আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি যেমন বসন্ত ও ভালোবাসার দিন, তেমনি দ্রোহ-বিদ্রোহেরও দিন।

আবার অনেকেই মনে করেন, ভিন্নভাবে তিনটি দিনে এসব উপলক্ষ পালন করা গেলেই ভালো হতো। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী শিখা। তিনি বলেন, ‘এক দিনেই সবশেষ হয়ে যাবে। তিনটি আলাদা দিনে পালন করতে পারলে আরও ভালো হতো।’

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন বললেন, ‘একটি প্রতিবাদী, মানবিক দিবসকে অন্য দিবস দিয়ে চাপা দেওয়া হচ্ছে। এটা ঠিক নয়।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে যে আয়োজন হয়েছিল তার বিরুদ্ধে ১৯৮৩ সালে প্রাণ দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এর অনেক পরে ১৯৯২ সালে বলতে গেলে ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। এমনভাবে এটা করা হয়েছে যে, স্বৈরাচার দিবসটি যেন চাপা পড়ে যায়। কিন্তু জাতির উন্নয়নের জন্য একটি যথাযথ শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন।’

কর্মসূচি : আজকের দিনটি ঘিরে রয়েছে নানা আয়োজন। এদিন শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বেলা ৩টায় রমনা পার্কের শতায়ু অঙ্গনের পাশে থাকছে আলোচনা সভা ও বসন্ত নৃত্য। পরে বিকাল ৪টায় রমনা পার্ক থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত শোভাযাত্রা হবে। সাড়ে ৪টায় একাডেমি প্রাঙ্গণে থাকছে বসন্ত নৃত্য, ৫টায় উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকাল ১০টার আয়োজনে কলাভবনের সামনে বটতলায় থাকছে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠনের একক ও সমবেত সংগীত এবং শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা।

বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন আজ পালন করবে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস। জাতীয় বসন্ত উৎসব পরিষদের উদ্যোগে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আয়োজন করা হয়েছে বসন্ত উৎসবের। সকাল সাড়ে ৭টায় সেতার বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ উৎসব। সকাল ১০টায় রয়েছে শোভাযাত্রা। বেলা সাড়ে ৩টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক পর্ব।

বসন্তকে স্বাগত জানাতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে বনানীর বুয়েট গ্র্যাজুয়েটস ক্লাব।

প্রিয় পোষ্ট সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন


আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন
ফিরে এলো ঈদুল আজহা
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি: ২৫ বছরে সুন্দরবনের আয়তন কমেছে ১১ হাজার হেক্টর
ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আবহাওয়া যেমন থাকবে
‘বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে শ্রমিক নিতে আগ্রহী ইউরোপ’
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় নিরসনে আন্তঃদেশীয় তিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে
নেপাল থেকে ৫ বছরের জন্য ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করবে বাংলাদেশ

জাতীয় এর আরও খবর

উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি: ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এ্যাড. মো. হেলাল উদ্দিন, সম্পাদক: অধ্যাপক মো. শাহাদাত হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মো. ওমর ফারুক দর্জি, প্রকাশক: আবু সাঈদ ইকবাল মাসুদ সোহেল কতৃক সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল লন্ডন থেকে প্রকাশিত
বাংলাদেশ অফিস: (অস্থায়ী) শহীদ ভিলা, বাসা- ২৫, কাঠালবাগান, গ্রীণরোড, ঢাকা-১২০৫