Header Border

ঢাকা, রবিবার, ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)
শিরোনাম :
শাহরাস্তির ওয়ারুকে তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে আলোচনা করলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ আইন পেশা একটি মহৎ পেশা, দেশের কল্যাণে এ পেশাকে কাজে লাগাতে হবে: প্রধান বিচারপতি শাহরাস্তিবাসীকে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানালেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মকবুল হোসেন শাহরাস্তিতে অসহায়দের মাঝে ২২ লক্ষ টাকার চেক ও নগদ অর্থ বিতরণ জিয়াউর রহমান কাকুতি মিনতি করে বাকশালের সদস্য হয়েছিলেন: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী নানক শাহরাস্তি উপজেলার নয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন ইঞ্জিঃ মকবুল হোসেন পাটওয়ারী চাঁদপুরের তিন উপজেলায় হুমায়ুন-হেলাল-মকবুল চেয়ারম্যান নির্বাচিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সিরিজ: হৃদয়ের ফিফটিতে টাইগারদের দেড়শ শাহরাস্তি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন ইঞ্জিঃ মকবুল, ভাইস চেয়ারম্যান হলেন মিলন ও হাসিনা  নাটোরে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত

মাইগ্রেন ও টেনশন মাথা ব্যাথা- উপসর্গ ও করণীয়

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

জীবনে কোনোদিন মাথাব্যাথা হয়নি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মাথাব্যাথা একটি কমন স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও এর বেশিরভাগই জটিলতাহীন বা অত্যধিক ক্ষতিকর নয় এমন। এগুলোকে Primary Headache বলা হয়।

Secondary Headache সমূহ সাধারণত মাথা ও ঘাড়ের সমস্যা যেমন টিউমার, আঘাত, ইনফেকশন, প্রদাহ, স্ট্রোক, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ, হাই ব্লাড প্রেসার ইত্যাদির কারনে হয়। এ জাতীয় মাথাব্যাথাসমূহ জটিলতাপূর্ণ এবং জীবনঘাতি হয়ে থাকে।

Migraine (মাইগ্রেন) ও Tension type Headache ( টেনশন হেডেক) Primary Headache এর অন্তর্ভূক্ত।

১) Tension type Headache :
——————————————

• সবচেয়ে কমন মাথাব্যাথা হচ্ছে এটি।

• মাথার ওপরি অংশে চাপ, কখনো মাথার চারপাশে ব্যান্ড / বন্ধনী দিয়ে টাইট করে বেঁধে রাখার মত অনুভূতি হয়।

• ⁠ব্যাথা এক নাগাড়ে চলতে থাকে এবং সমগ্র মাথা জুড়ে হয়।

• ⁠কখনো কখনো এ জাতীয় মাথা ব্যাথা কোনো বিরতি ছাড়া কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে, যদিও বিভিন্ন সময়ে এর তীব্রতার তারতম্য হতে পারে।

• ⁠মাইগ্রেন মাথা ব্যাথার মত বমি / বমিভাব, Photophobia বা আলোর সংস্পর্শে অস্বস্তি/ ব্যাথা অনুভব ইত্যাদি হয় না।

• ⁠দৈনন্দিন কর্মে নিয়োজিত অবস্থায় থাকলে ব্যাথা কম অনুভূত হয়।

• ⁠সকালে ব্যাথা কম থাকে এবং দিন যত গড়ায় ব্যাথা তত বাড়তে থাকে।

কারণঃ
———

প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও নিম্নবর্ণিত কিছু উত্তেজক এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়-

• ⁠অতি আবেগ

• ⁠দুশ্চিন্তা

• ⁠অবসাদগ্রস্ততা/ বিষন্নতা

• ⁠অপর্যাপ্ত ঘুম

করণীয়ঃ
———-

• আবেগ, দুশ্চিন্তা পরিহার করা।

• ⁠পর্যাপ্ত ঘুমানো।

• ⁠সাধারণ ব্যাথানাশক ঔষধ সেবন।

• ⁠চিকীৎসকের পরামর্শ অনুশারে প্রয়োজনে অবসাদ দূরীকরণের ঔষধ সেবন।

• ⁠Physiotherapy.

• ⁠Reassurance / আশ্বস্তকরণ।

২) Migraine Headache / মাইগ্রেন মাথাব্যাথাঃ
—————————————————————

• দ্বিতীয় কমন Headache হচ্ছে মাইগ্রেন হেডেক।

• ⁠পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশী আক্রান্ত হয়। ২০% মহিলা এবং ৬% পুরুষ জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে মাইগ্রেন মাথা ব্যাথায় ভোগে।

• ⁠রোগীদের মধ্য বয়সের পূর্বেই এ জাতীয় মাথা ব্যাথার আবির্ভাব ঘটে।

• ⁠টেনশন হেডেকের তুলনায় ব্যাথার তীব্রতা বেশী থাকে।

• ⁠সাধারণত মাথার এক পাশে অথবা কানের ওপরে দুই পাশে মৃদু কম্পন সহ ব্যাথা বা টনটন করে ব্যাথা হয়।

• ⁠ব্যাথা সাধারণত ৪ ঘন্টা থেকে ৩ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

• ⁠ব্যাথার সাথে বমি / বমিভাব, Photophobia ( আলোক অসহিষ্ণুতা ), Phonophobia ( শব্দ অসহিষ্ণুতা ) ইত্যাদি থাকতে পারে।

• ⁠নড়াচড়া করলে এ ব্যাথার তীব্রতা বেড়ে যায়।

• ⁠মাইগ্রেন রোগীরা আলো ও শব্দহীন অন্ধকার কক্ষে একাকী থাকতে পছন্দ করে। পক্ষান্তরে টেনশন হেডেকের রোগীরা কোলাহল পূর্ণ পরিবেশ কিংবা কাজে নিয়োজিত থাকলে ব্যাথা কম অনুভব করে বিধায় সেভাবেই থাকতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

• ⁠২০% রোগীর ক্ষেত্রে চোখের সামনে তারা জ্বলজ্বল করে, পর্দার মত পড়ে এবং দৃষ্টি এলাকার ( Visual field ) ঐ অংশে কোন কিছু না দেখা ( Visual Aura ) , যা ৪০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

• ⁠আবার কোনো কোনো রোগীর শরীরের কোনো অংশে অসাড়তা / অবসতা ( Tingling and numbness ) পরিলক্ষিত হতে পারে যা ২০-৩০ মিনিটের মধ্যে শরীরের এক অংশ হতে অন্য অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে ( Sensory Aura )।

• ⁠কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগীর স্ট্রেস সময় পার হওয়ার পর যেমন- সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস সন্ধ্যায় অথবা ছুটির দিনের শুরুতে মাথা ব্যাথা শুরু হয়।

সতর্কীকরণ পূর্বলক্ষণঃ
—————————-

কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মাইগ্রেন মাথা ব্যাথা শুরুর পূর্বলক্ষণ হিসেবে নিম্নলিখিত আচরণগত পরিবর্তন বা সমস্যা দেখা দিতে পারে-

• অয়থা ক্ষেপে যাওয়া এবং দূর্ব্যবহার করা।

• ⁠মেজাজ পূর্বের তুলনায় বেশী খিটখিটে হওয়া।

• ⁠স্বাচ্ছন্দহীনতা।

• ⁠অস্থিরতা ইত্যাদি ।

পূর্বলক্ষণসমূহ সাধারণত কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়।

কারো কারো ক্ষেত্রে এসব পূর্বলক্ষণ না ও থাকতে পারে, অর্থাৎ মাইগ্রেনের এসব রোগীর সতর্কীকরণ পূর্বলক্ষণ ছাড়াই মাথা ব্যাথা শুরু হতে পারে।

কারণঃ
———

প্রকৃত কারন অজানা । তবে নিম্নলিখিত কিছু ফ্যাক্টর এর সাথে সম্পর্কিত-

• বংশগত / জেনেটিক

• ⁠হরমোনের প্রভাব-

– নারীদের পিরিয়ড চলাকালীন নির্দিষ্ট সময়ে মাইগ্রেন ব্যাথা শুরু হতে পারে।

– মাইগ্রেনে আক্রান্তদের মধ্যে যারা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খেয়ে থাকেন তাদের মাইগ্রেন ব্যাথার প্রকোপ বেশী থাকে এবং এদের মধ্যে যাঁদের Aura উপসর্গ দেখা দেয় তাদের স্ট্রোক এর ঝুঁকি খানিকটা বেড়ে যায়।

• খাদ্যাভ্যাস – চকোলেট, পনির, মদ্যপান ইত্যাদি মাইগ্রেনের উত্তেজক।

• ব্রেইনের অস্বাভাবিক কার্যক্রম

• ⁠পরিবেশগত- হটাৎ গরম থেকে ঠান্ডা অথবা ঠান্ডা থেকে গরম পরিবেশে গেলে মাইগ্রেন ব্যাথা শুরু হতে পারে।

• ⁠কিছু শারীরিক কারণ

• ⁠অভ্যাসগত- মাইগ্রেন রোগীদের মধ্যে যাঁদের অধিক সময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকা কিংবা কথা বলার অভ্যাস রয়েছে তাদের মাথা ব্যাথার ফ্রিকোয়েন্সি এবং তীব্রতা বেশী হয়।

করণীয়ঃ
———-

i) Avoidance বা পরিহারঃ

• চকোলেট, পনির, মদ্যপান ইত্যাদি এড়িয়ে চলা।

• ⁠জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল সেবন হতে বিরত থাকা।

• ⁠মোবাইল ফোনে বেশী সময় ব্যস্ত না থাকা বা বেশী সময় ধরে কথা না বলা।

• ⁠অতিরিক্ত বেশী বা কম আলো পরিহার করে চলা।

• ⁠অতিরিক্ত কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ / স্থান ত্যাগ করা।

• ⁠তীব্র ঠান্ডা বা অতিরিক্ত রোদে না যাওয়া ।

ii) Alertness বা সতর্কতাঃ

সতর্কীকরণ পূর্বলক্ষণ দেখা দিলে মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং সাধারণ ব্যাথানাশক ঔষধ প্রস্তুত রাখা।

iii) Acute Attack হলে সাধারণ ব্যাথানাশক ঔষধ এবং বমি কমানোর ঔষধ সেবন করা।

iv) Severe Attack বা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকীৎসক ট্রিপটেন জাতীয় ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এখানে মনে রাখতে হবে, ব্যাথানাশক ঔষধ ও ট্রিপটেন জাতীয় ঔষধ মাত্রাতিরিক্ত সেবনের ফলে মাথা ব্যাথা কমার পরিবর্তে বেড়ে যেতে পারে। একে Medication Overuse Headache বলে।

v) Prevention বা প্রতিরোধঃ

যাঁদের মাসে ৩-৪ বারের বেশী মাইগ্রেন এটাক হয় তাদেরকে বিশেষজ্ঞ চিকীৎসক নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন যাতে এটাক বা আক্রান্তের হার কমে আসে।

ডাঃ এ. এন. এম. মাজহারুল ইসলাম (রুবেল)
এমবিবিএস , এফসিপিএস ( মেডিসিন )
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
কার্ডিওলজী বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল , ঢাকা ।

প্রিয় পোষ্ট সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন


আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী চিকিৎসা সরঞ্জামাদি হস্তান্তর
হিটস্ট্রোকে দুই সপ্তাহে ১৫ জনের মৃত্যু
শাহরাস্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মেমোরিয়াল হাসপাতালকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড
দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত
ক্যানসারের টিকা তৈরির দ্বারপ্রান্তে রাশিয়া : পুতিন
দিনে ঘুমাচ্ছেন? জেনে নিন উপকার নাকি ক্ষতি

স্বাস্থ্য চিকিৎসা এর আরও খবর

সম্পাদক: অধ্যাপক মোঃ শাহাদাত হোসেন, প্রধান সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, প্রকাশক: আবু সাঈদ ইকবাল মাসুদ সোহেল, মিডিয়া ভিশন লন্ডন থেকে প্রকাশিত।   ঢাকা কার্যালয় (অস্থায়ী): শহীদ ভিলা, বাসা- ২৫, কাঠালবাগান, গ্রীনরোড, ঢাকা-১২০৫