দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত দিয়ে ২২ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ
চুয়াডাঙ্গা: ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত পথে ২২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত দিয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরোনোর অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন স্থানে আটক থাকার পর প্রক্রিয়াগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মঙ্গলবার বিকেলে তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরতপ্রাপ্তদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ৭ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, যশোর, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। জানা গেছে, এরা কাজের সন্ধানে বা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে প্রলুব্ধ হয়ে দালালের সহযোগিতায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার পর তারা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ছিলেন।
ফেরত প্রক্রিয়া
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দর্শনা চেকপোস্টে বিকেল প্রায় ৪টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এ সময় বিজিবি দর্শনা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার জাহিদুল ইসলাম এবং ভারতের ৫৮ ব্যাটালিয়নের জয়নগর কোম্পানি কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন।
হস্তান্তরের পর বিজিবি তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি (ব্লাস্ট) এবং মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইটস জেসটিস ফোরাম’-এর সহায়তায় পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ফেরতপ্রাপ্তদের অভিজ্ঞতা
ফেরত আসা কয়েকজন জানান, দালালদের মাধ্যমে তারা সীমান্ত পার হয়েছিলেন, যারা কাজের সুযোগ ও ভালো আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সীমান্ত পেরোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিএসএফ বা স্থানীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তারা। আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয় এবং মাসের পর মাস বন্দি জীবন কাটাতে হয়। এ সময় পরিবার থেকে দূরে থেকে অর্থাভাব ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের।
একজন নারী ফেরতপ্রাপ্ত বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল, ভারতে গেলে গার্মেন্টসে কাজ পাব, কিন্তু সীমান্ত পার হওয়ার পরই ধরা পড়ি। কয়েক মাস কারাগারে কাটানোর পর আজ বাড়ি ফিরতে পারলাম।”
বিজিবি ও মানবাধিকার সংগঠনের অবস্থান
বিজিবি সূত্র জানায়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দালাল চক্র দরিদ্র মানুষদের ভুল তথ্য দিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। বিএসএফের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি (ব্লাস্ট) চুয়াডাঙ্গা শাখার সমন্বয়ক জানান, অনেক নারী-শিশু দালালের ফাঁদে পড়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়, যার ফলে তারা মানবপাচারের শিকার হয়েও যেতে পারে। ফেরতপ্রাপ্তদের আইনি সহায়তা দেওয়া এবং তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও সচেতনতা
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে বিজিবি। নিয়মিত সভা, প্রচারপত্র বিতরণ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দালাল চক্রের অপতৎপরতা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। বিজিবি কর্মকর্তারা বলেন, “চাকরির লোভ দেখিয়ে দালালরা মানুষকে অবৈধ পথে পাঠায়। অনেক ক্ষেত্রে তারা মানবপাচারের সাথেও জড়িত। সবাইকে আইনসম্মত পদ্ধতিতে বিদেশ গমনের জন্য সচেতন হতে হবে।”

















