১১টি বগি রেখে ৫টি নিয়ে চলে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেন দুই ভাগে বিভক্ত, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে চলাচল বন্ধ
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ এলাকায় চলন্ত অবস্থায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে হুড়োহুড়ি করে ট্রেন থেকে লাফিয়ে নেমে পড়েন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর ট্রেন বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন ছাড়ে। ২০ মিনিটের মধ্যে ট্রেন পৌঁছায় আশুগঞ্জের যাত্রাপুর এলাকায়। এ সময় ট্রেনের বগির সংযোগের কাপলিংক ভেঙে যায়। ফলে চলন্ত অবস্থায় ট্রেন দুই ভাগে আলাদা হয়ে যায়। পেছনের ১১টি বগি ছেড়ে পাঁচটি বগি নিয়ে ইঞ্জিন সামনে চলে যায়। এরপর ট্রেনটি প্রায় এক কিলোমিটার এগিয়ে মেঘনা রেলসেতুর ওপর আটকে যায়।
ট্রেনের চালক ও পরিচালক বিষয়টি বুঝতে পেরে পেছনের বগি নিয়ে স্টেশনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ট্রেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-ঢাকা রেলপথের আপলাইনে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আশুগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শহিদুল ইসলাম জানান, মেঘনা রেলসেতুর ওপর আটকা পড়া পাঁচটি বগি ইঞ্জিনসহ ভৈরব রেলস্টেশনে নিয়ে রাখা হয়েছে। পেছনের ১১টি বগি অন্য একটি ট্রেনের ইঞ্জিনের মাধ্যমে আশুগঞ্জ স্টেশনে সরানো হয়েছে। তবে আপলাইনে এখনও ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি।
দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়েন। রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আপলাইনের চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-ঢাকা রেলপথের যাত্রীদের ভ্রমণে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার প্রক্রিয়া চলছে।


















