চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার হিসাবে পদায়নের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
ডিএমপির মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের ডিসি গৌতম কুমার বিশ্বাসকে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়। একই প্রজ্ঞাপনে আরও ১৩ কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, গৌতম কুমার বিশ্বাস বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ডিএমপিতে যোগদানের আগে তিনি ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার, পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ একাধিক ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেনএ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন প্রবাসী সাংবাদিক আব্দুর রব ভুট্টো। তিনি উল্লেখ করেন, “হাসিনার দোসর ফ্যাসিস্ট ডিএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের অন্যতম সহযোগী ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সোর্স গৌতম কুমার বিশ্বাসকে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার পদে পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মহারাজকে চুয়াডাঙ্গায় বদলি করা হয়েছে। গৌতমকে এসপি হিসেবে পদায়নের ফলে পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ হাসিনার আমলে বঞ্চিত বহু পুলিশ কর্মকর্তাকে এখনো কোনো ইউনিট বা জেলায় পদায়ন করা হয়নি। বিশাল লেনদেনের মাধ্যমেই গৌতমকে জেলায় এসপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী একটি জেলায় তাঁকে এসপি করা হলে গোপন তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”২৫তম বিসিএসের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিনিময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলেও বর্তমানে পুলিশ প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা চলছে। পুলিশে কোনো চেইন অব কমান্ড নেই। নেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের মধ্যে সমন্বয়। পুলিশ সদর দফতর চলছে একজন বিশেষ দলের প্রভাবশালী কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে। ওই কর্মকর্তা পুলিশে ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডারদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করছেন। বিএনপি-সমর্থিত কর্মকর্তারা তাঁর টার্গেটে পরিণত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে বলা হয়েছে, গৌতম কুমার টানা চার বছর (২০১৬-২০২০ সাল পর্যন্ত) পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে তিনি নিজেকে মাগুরা-২ আসনের (শালিখা, মোহাম্মদপুর ও সদর আংশিক) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য বীরেন শিকদারের নিকটাত্মীয় পরিচয় দিতেন এবং সেই প্রভাব দেখিয়ে পাবনায় কাজ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ইসলামি জলসা বন্ধ করে দেওয়া, বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচি অনুমতি না দেওয়া ও পণ্ড করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি “পাবনাবার্তা” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গৌতম কুমারের তিনটি ছবি দিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। এতে লেখা হয়, “পাবনায় দায়িত্বে থাকার সময় বিএনপি ও জামায়াতের বহু নেতাকর্মীকে তিনি লোমহর্ষক নির্যাতন করেছেন। তাঁর নাম শুনলেই বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা তটস্থ থাকতেন। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক তাফসির মাহফিল বন্ধ করার অভিযোগও রয়েছে। বিএনপি-জামায়াতকে নির্যাতনের পুরস্কার হিসেবে ২০১৮ সালে তাঁকে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দিয়েছিল শেখ হাসিনা সরকার। আওয়ামী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে গর্ব করতেন। তাঁর পদায়নে বিএনপি ও জামায়াতের নির্যাতিত নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।” পোস্টে অবিলম্বে তাঁর পদায়ন প্রত্যাহার করে বিচার দাবি করা হয়।পোস্টটিতে ফরহাদ ইসলাম নামে একজন মন্তব্য করেন, “মনে পড়ে কি পাবনাবাসীর? এই সেই ব্যক্তি, যিনি পাবনা ইসলামিয়া মাদরাসার জলসা শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে বন্ধ করে দিয়েছিলেন।” অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন শাহীন লিখেছেন, “এই পুলিশ অফিসার পাবনায় থাকাকালে বিএনপি-জামায়াতকে ধ্বংস করেছে।”জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলার আমির আবু তালেব মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, “বিগত সরকারের আমলে পুলিশের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব ছিল। বিশেষ করে তৎকালীন সরকারবিরোধীদের সবসময় চাপে রাখা হতো। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। বিশেষ করে পাবনায় দারুল আমান ট্রাস্টের জলসা হলে, তার আগ মুহূর্তে গৌতম কুমার সেটি পণ্ড করে দিতেন। এছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের ঘরে বসতে দেওয়া হয়নি। সবসময় দৌড়ের ওপর রেখেছিল।”এদিকে পুলিশ কর্মকর্তা গৌতম কুমার এবং বীরেন শিকদারের বাড়ি মাগুরার শালিখা উপজেলার সিংড়া গ্রামে। গৌতমের বাবা গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস ছিলেন ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। একই গ্রামের হওয়ায় গৌতম সাবেক এমপি বীরেন শিকদারের আত্মীয় পরিচয় দিতেন। তবে তৎকালীন সরকারের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসে, গৌতমের বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এরপর গৌতম কুমারকে পুলিশের কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোতে পদায়ন করা হয়। পাবনা থেকে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সুপার হলে তাঁকে ময়মনসিংহ পিবিআইয়ে পদায়ন করা হয়। পরে তিনি নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার হন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাঁকে ডিএমপিতে পদায়ন করা হয়।















