চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ভ্যাপসায় নাজেহাল কর্মজীবীরা
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে তাপমাত্রা। এতে ভ্যাপসা গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে। এসময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৫ শতাংশ।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই জেলার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর থেকে তাপমাত্রা ওঠানামা করলেও ৩৬ ডিগ্রির বেশি আর হয়নি। প্রায় দেড় মাস পর আবারও ৩৬ ডিগ্রির ওপরে উঠে গেলো জেলার তাপমাত্রা। এ কারণে হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া গরমে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার আগে তাপমাত্রা সাধারণত বৃদ্ধি পায়। তবে এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী নয়। তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাপমাত্রা আবার কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে হঠাৎ করেই তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রিকশা, ইজিবাইক ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। চুয়াডাঙ্গা শহরের কয়েকজন ইজিবাইক চালক বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আবহাওয়া মোটামুটি সহনীয় ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই রোদ-বৃষ্টি না থাকায় ভ্যাপসা গরম বেড়ে গেছে। রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে।”
এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে দুপুরের সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, হালকা খাবার গ্রহণ ও শরীর ঠাণ্ডা রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক তাহমিনা আক্তার জানান, “২৩ জুলাইয়ের পর সোমবার আবারও তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাপমাত্রা কিছুটা কমে ২৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি হয়েছে। তবে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম ভ্যাপসা লাগছে।”
হঠাৎ করেই তাপমাত্রা বাড়ায় চুয়াডাঙ্গার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি অস্থায়ী পরিস্থিতি। লঘুচাপের প্রভাবে শিগগিরই আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসবে।

















