চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসা ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু, পুকুরে ডুবে নিভলো জীবন
চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহ জামিয়া কারিমিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র হাম্মাদ হুসাইন সামাউল (১৯) পুকুরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সামাউল ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া কাপাসাটিয়া ইউনিয়নের রায়পাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে। সে জামিয়া কারিমিয়া মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, বিকেল চারটা পর্যন্ত সে শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করছিল। সাড়ে চারটার দিকে গোসলের জন্য পুকুরে নামে। এসময় তার সহপাঠী হুজাইফা পুকুরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। সামাউল নাকি বন্ধুকে বলে—সে ডুব দিয়ে কতক্ষণ পানির নিচে থাকতে পারে তা দেখার অনুরোধ করে। এরপরই সে পানির নিচে যায়। প্রায় পাঁচ মিনিট পার হয়ে গেলেও যখন আর উপরে ওঠেনি, তখন হুজাইফা অন্যান্য সহপাঠী ও শিক্ষকদের খবর দেয়। একপর্যায়ে সবাই মিলে পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় ১৫ মিনিটের প্রচেষ্টার পর তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রথমে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহেবুবা মুস্তারি জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা রাসেল আহম্মেদ বলেন, “আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই মিলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু উদ্ধার করতে অনেক সময় লেগে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সে মারা যায়।”
মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আবুবকর সিদ্দীক জানান, সামাউল এক মাসের ছুটি কাটিয়ে সম্প্রতি মাদ্রাসায় ফিরে এসেছিল। বৃহস্পতিবার আছরের নামাজের আগে গোসলের উদ্দেশ্যে পুকুরে নেমে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তিনি আরও জানান, সে একাই পুকুরে নেমেছিল এবং ঘটনাস্থলে তার বন্ধু হুজাইফা উপস্থিত ছিল।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে এটি অপমৃত্যু বলেই মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
মাদ্রাসা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সামাউলের বোনের বিয়ের জন্য সম্প্রতি বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে এসেছিল সে। অল্প বয়সে এভাবে প্রাণ হারানোয় পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

















